আমাকে উগ্র মৌলবাদীরা হত্যার হুমকি দিয়েছে এবং বিশেষ করে ২৪মে আমাকে গ্রেপ্তারের ফাসির দাবিত মিছিল করেছে। কিন্তু কেন? সম্ভবত আমার মতামত, কাজ, বা বিশ্বাস তাদের চরমপন্থী আদর্শের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হওয়ার কারণে। তাদের নবী মোহাম্মদের সকল অপকর্ম আমি তুলে ধরেছি। আমি মনে করি এসব জিহাদিরা সাধারণত ধর্মের একটি কট্টর ও রক্ষণশীল ব্যাখ্যা অনুসরণ করে, এবং তারা ধর্মীয় নীতির বাইরে কোনো মতামত বা কার্যকলাপকে সহ্য করতে চায় না। বিশেষ করে, আমার মুক্তচিন্তা, নাস্তিকতা, ধর্মীয় সমালোচনা, বা মানবতাবাদী দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করছি। ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর থেকে এসব হুমকি আমার সহ্য হয়ে গেছে। তাদের ফেজবুকে কিছু পোস্ট





আমার হুমকির পেছনে আমি নাস্তিকতা, যুক্তি, বা বিজ্ঞানভিত্তিক চিন্তাভাবনার পক্ষে কথা বলি এবং ধর্মীয় বিশ্বাস নিয়ে প্রশ্ন তুলি, তাহলে তা জিহাদিদের কাছ থেকে প্রতিক্রিয়াস্বরূপ সহিংস হুমকি পেতেই পারি। আর বাংলাদেশে ধর্মীয় অনুভূতিকে অত্যন্ত গুরুত্ব দেওয়া হয়, এবং যখন কেউ ধর্মের বিরুদ্ধে কথা বলে বা ধর্মীয় প্রচলিত ধ্যানধারণা চ্যালেঞ্জ করে, তারা মেনে নিতে পারেনা। কারণ তাদের সাহস নেই। জিহাদি গোষ্ঠীগুলো ধর্মীয় অনুভূতিকে উসকে দিয়ে লোকজনকে সহিংসতায় প্ররোচিত করে। তাদের মতে, ধর্মীয় সমালোচনা বা প্রশ্ন করা একধরনের “অপরাধ” তারা কঠোর শাস্তির দাবী করে। জিহাদি গোষ্ঠীগুলো তাদের নিজস্ব কট্টর ধর্মীয় আদর্শ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করে, যেখানে কোনো ভিন্ন মত বা স্বাধীন চিন্তাধারার স্থান নেই। তারা ধর্মীয় রাজনীতি এবং শাসন প্রতিষ্ঠা করতে চায়, যেখানে ধর্মের নামে কঠোর আইন বলবৎ হবে। আমি এই আদর্শের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছি বলেই তারা আমাকে শত্রু হিসেবে দেখে এবং হুমকি দেয়।ধর্মীয় উগ্রবাদী গোষ্ঠীগুলো নিজেদের শক্তি প্রদর্শন করতে বা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে প্রতিপক্ষের উপর চাপ প্রয়োগ করতে এই ধরনের হুমকি দেয়। তারা ভয় দেখিয়ে বা সহিংসতার আশঙ্কা সৃষ্টি করে সমাজে নিজেদের আদর্শকে প্রতিষ্ঠিত করতে চায়। যে কেউ কোনোভাবে তাদের এই পরিকল্পনার বিরুদ্ধে দাঁড়াই বা প্রভাব ফেলি, তাহলে তারা আমাকে টার্গেট করতে পারে। আমি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বা লেখালেখির মাধ্যমে আমার মতামত প্রকাশ করে থাকি, যা তাদের ধর্মীয় চরমপন্থার বিরোধীতা সেটির জন্য হুমকি আসবেই। আমি কেয়ার করিনা। তারা আমাকে টার্গেট করেছে কারণ আমি মুক্তচিন্তাবিদ, লেখক, ব্লগার, এবং মানবতাবাদী, আমি তাদের মতের সব অপকর্ম প্রকাশ করি। আমি মনে করি আন্তর্জাতিক ও স্থানীয়ভাবে ধর্মীয় উগ্রপন্থী গোষ্ঠীগুলো একে অপরের সঙ্গে সংযুক্ত থাকে। যদি কোনো গোষ্ঠী আপনাকে তাদের আদর্শ বা ধর্মীয় অনুভূতির শত্রু মনে করে, তাহলে তারা সেই মতবাদে বিশ্বাসী অন্যদেরকে আপনাকে টার্গেট করতে উস্কানি দিতে পারে। আমাকে দেওয়া এই হুমকিগুলো শুধু মত প্রকাশের স্বাধীনতার বিরুদ্ধে নয়, বরং মানবাধিকার এবং মুক্ত চিন্তার বিরুদ্ধে একটি আক্রমণ।

