অজ্ঞেয়বাদ (ইংরেজি: Agnosticism) একটি দর্শন, যা বিভিন্ন মৌলিক প্রশ্ন বা ধর্মীয় দাবি, যেমন – ঈশ্বর-এর অস্তিত্ব, ইত্যাদির সত্যতাকে মনে করে অজ্ঞাত ও অজ্ঞেয়, তথাপি জীবনযাপনের জন্য অগুরুত্বপূর্ণ। অজ্ঞেয়বাদ আস্তিকতাবাদ হতে তো বটেই, নাস্তিকতাবাদ হতেও ভিন্ন, কেননা নাস্তিকতাবাদ সরাসরি ঈশ্বরের অস্তিত্বহীনতা দাবী করে, যেখানে অজ্ঞেয়বাদ এই দাবীর প্রশ্নেও সমান সন্দিহান। দার্শনিক উইলিয়াম রোয়ের মতে, সাধারণ অর্থে, অজ্ঞেয়বাদ অর্থ ঈশ্বরে বিশ্বাস অথবা ঈশ্বরে অবিশ্বাস যেখানে নাস্তিকতাবাদ ঈশ্বরের অস্তিত্বে অবিশ্বাস করে। অজ্ঞেয়বাদে যারা বিশ্বাস করেন তাদের সাথে, যারা মৌলিক প্রশ্নের উত্তরকে অজ্ঞাত কিন্তু হয়তো অজ্ঞেয় নয় মনে করেন, তারাও নিজেদের অজ্ঞেয়বাদী দাবী করেন ও শেষের দর্শনটিকেও অজ্ঞেয়বাদেই আলোচনা করা হয়। সাধারণভাবে সকল অজ্ঞেয়বাদী ধর্ম সংক্রান্ত বিশ্বাসের ব্যাপারে সংশয়ী হন।

সংশয়বাদ (ইংরেজি ভাষায়: Skepticism) শব্দটি অনেক বৃহৎ পরিসরে ব্যবহৃত হয়। যেকোন কিছুকে প্রশ্নবিদ্ধ করার মনোভাবকেই সংশয়বাদ বলা যেতে পারে। সাধারণ্যে বহুল প্রচলিত কোনো ধারণাকে সন্দেহ করা অর্থে সংশয়বাদ শব্দটি ব্যবহৃত হয়ে থাকে। কোনো কিছুর নিদর্শন পেলে তাকে বিনা বাক্য ব্যায়ে মেনে না নিয়ে বরং সেই নিদর্শনটিকেই প্রশ্নবিদ্ধ করাই সংশয়বাদ। যারা সংশয়বাদের প্রতি আস্থা রাখেন বা সংশয়বাদ চর্চা করেন তাদেরকে সংশয়বাদী বলা হয়। চিরায়ত দর্শন থেকেই সংশয়বাদের ইংরেজি প্রতিশব্দ, স্কেপ্টিসিজম শব্দটি এসেছে। প্রাচীন গ্রিসে কিছু দার্শনিক ছিলেন যারা “কোনো কিছুকেই নিশ্চিত বলে ঘোষণা দিতেন না বরং সব কিছুতেই তাদের নিজস্ব মতামত ব্যক্ত করতেন”। দার্শনিকদের এই ধারাটিকে তখন Skeptikoi বলা হতো। তাই Skeptikoi দার্শনিক ধারার দার্শনিকদের বৈশিষ্ট্যকেই স্কেপ্টিসিজম হিসেবে আখ্যায়িত করা হতে থাকে
ঔদাসীন্যবাদ (ইংরেজি ভাষায়: Apatheism) হচ্ছে একটি দার্শনিক দৃষ্টিভঙ্গি যা অনুসারে, ঈশ্বরের অস্তিত্ব বা অনস্তিত্ব সংক্রান্ত বিষয়ে ব্যক্তির উদাসীন থাকা উচিৎ। একে একটি বিশ্বাস, বিশ্বাস ব্যবস্থা বা দাবীর চাইতে প্রবণতা হিসেবেই অভিহিত করা যায়।এপাথিস্ট বা ঔদাসীন্যবাদীরা ঈশ্বরের অস্তিত্ব স্বীকার কিংবা অস্বীকার করতে আগ্রহী নয়। ঈশ্বরের অস্তিত্ব নেই এমনভাবেই তারা দিনযাপন করেন এবং যেকোন ঘটনা ঐশ্বরিক নয় বরং প্রাকৃতিকভাবেই সংঘটিত হয় বলে মনে করেন। ঈশ্বরের অস্তিত্ব একেবারে উড়িয়ে দেয়া হয় না বরং তার অস্তিত্ব অদরকারী ও অপ্রয়োজনীয় বলে ধরা হয়। ঈশ্বর জীবনের লক্ষ্য প্রদসান করেন না কিংবা দৈনন্দিন জীবনে প্রভাব রাখেন না বলেই মানা হয়। অন্যভাবে বলা যায়, এপেথিস্টরা স্রষ্টার অস্তিত্বের প্রশ্নকে তাদের জীবনে কোনভাবেই অর্থবহ বলে মনে করেন না। কিছুকিছু ঔদাসীন্যবাদীর মতে, স্রষ্টার অস্তিত্ব প্রমাণ হওয়া কিংবা না হওয়াতে তাদের জীবনযাত্রায় কোন পরিবর্তন রাখবে না বলেই মানেন। বিজ্ঞানী ও দার্শনিক ইয়ান ভন হেগনার বলেন, ঔদাসীন্যবাদ হচ্ছে আস্তিক্যবাদ, নাস্তিক্যবাদ ও অজ্ঞেয়বাদের একটি বিকল্প অবস্থান, যা আধুনিক দার্শনিক আলোচনায় এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে। অধ্যাপক ট্রেভর হেগনার ঔদাসীন্যবাদকে ধর্মদর্শনের একটি অনুল্লিখিত অঞ্চল বলে অভিহিত করেছেন
