বাংলাদেশে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নেই—বাউলদের ওপর হামলা তারই নির্মম প্রমাণ

বাংলাদেশে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা আজ কাগজের শব্দ মাত্র।

এ দেশে কে কী বিশ্বাস করবে, কোন গান গাইবে, কোন কথা বলবে—তার স্বাধীনতা এখন উগ্রবাদীদের দয়ামায়ায় নির্ধারিত হয়। শিল্পী, বাউল, যাত্রাশিল্পী, লোকসংগীতশিল্পী—তাদের কেউই “মুক্তচিন্তক” হওয়ার দাবি না করলেও, তাদের নিজস্ব শিল্পচর্চা আজ অপরাধ গণ্য হচ্ছে।

বাউলরা মুক্তচিন্তক কিনা, মানবতাবাদী কিনা—এটা আসল প্রশ্ন নয়।

আসল সমস্যা হলো: বাংলাদেশে ভিন্নধর্মী, ভিন্নরুচির শিল্প কিংবা মত প্রকাশ করলেই সেটা ‘অপরাধ’ হয়ে যাচ্ছে।

সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বাউল, মরমি শিল্পী ও লোকসংগীতশিল্পীদের উপর ধারাবাহিক হামলা—এটি প্রমাণ করে যে বাংলাদেশে সাংস্কৃতিক স্বাধীনতা নেই, শিল্পীর নিরাপত্তা নেই, আর সবচেয়ে বড় কথা:

মতপ্রকাশের স্বাধীনতা পুরোপুরি বিপর্যস্ত।

মানুষকে কখনো পোশাকের অজুহাতে, কখনো গানের কথার কারণে, কখনো অদ্ভুত “ধর্মীয় অনুভূতি”–র গল্প বানিয়ে হামলা করা হচ্ছে।

যে দেশ সংস্কৃতির নামে পরিচিত ছিল—আজ সেই দেশেই শিল্পীরা পুলিশ উপস্থিত থাকলেও নিরাপত্তা পান না। উগ্রবাদীরা যেভাবে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে, তাতে রাষ্ট্রের নীরবতা আরও ভয়াবহ সংকেত দেয়।

বাউলশিল্পী আবুল সরকারকে সামান্য অভিযোগেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে—যে অভিযোগের বিচার মঞ্চে নয়, বরং জনতার হাতে চালানো হচ্ছে।

তার ভক্তদেরও হামলার শিকার হতে হয়েছে। এর অর্থ পরিষ্কার—এ দেশে মতপ্রকাশের অধিকার কোনো শ্রেণির মানুষেরই নেই।

কেউ নাস্তিক হলে সমস্যা, আবার কেউ কোনো সুর বা দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে গান করলেও সমস্যা।

বাংলাদেশে এখন মতপ্রকাশের স্বাধীনতা চাইলেই আপনি ঝুঁকিতে পড়বেন। শিল্পী কিংবা বাউলরা কারও শত্রু নয়, তারা সমাজ বা ধর্মকে আক্রমণ করতেও জন্মায়নি।

কিন্তু আজ যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে—তাতে শিল্পের স্বাধীনতা, মানুষের ব্যক্তিস্বাধীনতা—সবই প্রশ্নবিদ্ধ।

আমি একজন নাস্তিক হিসেবে বলছি:

মুক্তচিন্তা শুধু ধর্ম নিয়ে প্রশ্ন করার নাম নয়—এটা মানুষের ইচ্ছেমত বাঁচা, কথা বলা, শিল্প প্রকাশ করার অধিকার।

আজ সেই অধিকারের ওপর হামলা হচ্ছে।

এটা বাউলদের বিরুদ্ধে হামলা নয়—এটা বাংলাদেশের প্রত্যেক নাগরিকের অধিকার আক্রমণের ঘটনা।

এটা আমাদের সংবিধানের ওপর আঘাত।

এটা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ওপর আঘাত।

যদি রাষ্ট্র এখনই কঠোর ও স্পষ্ট অবস্থান না নেয়

তাহলে খুব শিগগিরই বাংলাদেশকে উগ্রবাদীদের দখলদার রাষ্ট্র হিসেবে দেখবে বিশ্ব।

আমার দাবি

১. শিল্পীদের, সাংস্কৃতিক কর্মীদের এবং ভিন্নমতাভিমত প্রকাশকারীদের নিরাপত্তা রাষ্ট্রকে নিশ্চিত করতে হবে।

২. উগ্রবাদী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে তাত্ক্ষণিক ও কার্যকর নির্মূল অভিযান চালাতে হবে।

৩. মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে সংবিধান অনুযায়ী বাস্তবে কার্যকর করতে হবে।

৪. বাউলশিল্পী আবুল সরকারের নিঃশর্ত মুক্তি দিতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *