মানুষের সবচেয়ে সুন্দর ও স্বাভাবিক অনুভূতিগুলোর একটি হলো প্রেম। অথচ ইসলাম ধর্মে প্রেম নিষিদ্ধ – হারাম। শুধু তাই নয়, প্রেমিক-প্রেমিকার সম্পর্ক তৈরি হলে তা ব্যভিচার হিসেবে গণ্য হয় এবং শাস্তি হয় মৃত্যু। তাদের নবী মুহাম্মদ প্রেমের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছিলেন এবং প্রেমিক-প্রেমিকার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার আদেশও দিয়েছিলেন। নিচে কোরআন ও সহিহ হাদিসের আলোকে এই ভয়ঙ্কর নিষ্ঠুর চিত্রটি তুলে ধরা হলো।
প্রেম কেন হারাম: প্রেম = ব্যভিচারের সূচনা
> “তোমরা ব্যভিচারের ধারে-কাছে যেয়ো না। এটা নির্লজ্জতা এবং নিকৃষ্ট পথ।”
– কোরআন, সূরা আল-ইসরা ১৭:৩২
> “চোখ ব্যভিচার করে, কান ব্যভিচার করে, জিহ্বা ব্যভিচার করে, হাত ব্যভিচার করে, পা ব্যভিচার করে এবং হৃদয় ব্যভিচার কামনা করে। শরীর তা বাস্তবায়ন করে বা ছেড়ে দেয়।”
– সহিহ মুসলিম, হাদিস 2657 (বাংলা দারুস সালাম সংস্করণ)
অর্থাৎ প্রেমের অনুভবকেও ইসলাম ব্যভিচারের সূচনা বলে মনে করে। চোখে তাকানো, মনে বাসনা করা, এমনকি কানে প্রিয়জনের কণ্ঠ শুনেও ‘ব্যভিচার’ হয়। এটি ইসলামের কাছে ‘শরীরের নিষিদ্ধতার’ সূচনাপথ।
—
প্রেমের শাস্তি: প্রেমিকদের পাথর ছুঁড়ে হত্যা (রজম)
যদি প্রেমিক-প্রেমিকা একে অপরের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক গড়ে তোলে, তাহলে তাদের শাস্তি হলো পাথর ছুঁড়ে হত্যা। এ শাস্তি কোরআনে নেই, কিন্তু তাদের নবী মুহাম্মদ নিজে এই শাস্তি দিয়েছেন এবং আদেশও করেছেন।
> “আমার নিকট এক লোককে আনা হলো, যে ব্যভিচার করেছে। আমি তাকে রজম করার আদেশ দিলাম।”
– সহিহ মুসলিম, হাদিস 1691
> “এক নারী এল, বলল ‘হে আল্লাহর রাসুল, আমি ব্যভিচার করেছি। আমাকে পবিত্র করুন।’… অতঃপর তিনি বলেন: ‘তোমার সন্তান জন্ম নিক।… তারপর তাঁকে (সন্তান জন্মের পর) রজম করা হলো।”
– সহিহ মুসলিম, হাদিস 1695
> “তাদের নবী মুহাম্মদ বললেন: ‘এ নারী এমন তওবা করেছে, যা যদি মদিনার সকল লোক করতো, তবু তা যথেষ্ট হতো না।’ এরপরও তিনি তাকে পাথর ছুঁড়ে হত্যার নির্দেশ দেন।”
– সহিহ মুসলিম, হাদিস 1696
এখানে দেখা যায়, তওবা করেও প্রেমের শারীরিক পরিণতির কারণে কেউ মুক্তি পায় না। ইসলামে প্রেম মানেই মৃত্যু হতে পারে।
—
শুধু বিবাহিত নয়, অবিবাহিত প্রেমিকদের জন্যও বেত্রাঘাত ও নির্বাসন
> “যে অবিবাহিত ব্যভিচার করে, তাকে ১০০ বেত্রাঘাত করো এবং একবছরের জন্য নির্বাসনে পাঠাও।”
– সহিহ মুসলিম, হাদিস 1690
অর্থাৎ প্রেমের ফল অবিবাহিত হলে শারীরিক শাস্তি ও সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন করার দণ্ড। কোনো সহানুভূতি নেই, প্রেমের জন্য ক্ষমা নেই।
—
কোরআনে রজম নেই, তবু মুহাম্মদের মুখের কথা আইন!
> “রজমের আয়াত ছিল; আমরা তা কোরআনে পাঠ করতাম এবং তা পালন করতাম। আমি নিজ হাতে রজম করেছি। রাসুলও রজম করেছেন।”
– সহিহ বুখারী, হাদিস 6829
এখানে স্পষ্ট বোঝা যায় যে রজম (পাথর ছুঁড়ে মারা) কোরআনে নাই – কিন্তু তাদের নবী মুহাম্মদের কথাই ছিল আইন। এটাই ছিল ইসলামি শরিয়ার ভয়ংকর দিক – মানুষের মৃত্যু নির্ধারিত হতো মুহাম্মদের কথার ভিত্তিতে, আল্লাহর বাণী নয়।
—
উপসংহার: প্রেম যেখানে মৃত্যু, ধর্ম সেখানে অমানবিকতা
প্রেম যদি একটি অনুভব হয়, তাহলে ইসলাম সেটিকে অপরাধ বলে গণ্য করে। প্রেমিক-প্রেমিকার ভালোবাসা ইসলামে ক্ষমার অযোগ্য ব্যভিচার। আর তাদের নবী মুহাম্মদ এই প্রেমিকদের মৃত্যু নিশ্চিত করতে রজমের আদেশ দিয়েছেন, নিজ হাতে কার্যকরও করেছেন। এ ধর্মে মানবতা নেই, প্রেমের জন্য সহানুভূতি নেই। কেবল নিষ্ঠুরতা আর শাস্তি। একজন নাস্তিক হিসেবে আমার মতে, এই ধর্ম প্রেমের শত্রু, স্বাধীন মানবিক অনুভূতির শত্রু।
