ছোটবেলা আমাদের এলাকায় একটি হিন্দু বাড়ি ছিল। সেই বাড়িতে আমার এক বন্ধুও ছিল, যার সাথে খেলাধুলা করতাম। তাদের বাসায় মাঝে মাঝেই পুজা হলে, আমি মজার মজার খাওয়ার লোভে যেতাম। তারা নানা ধরণের ফলমূল এবং লাড্ডু খেতে দিতো। অবাক হয়ে লক্ষ্য করতাম, অন্য হিন্দু ছেলেমেয়েদের বাটিতে খাবার দিলেও, আমাকে দেয়া হতো কলাপাতার ওপর। তখন বিষয়টি বুঝতাম না, কিন্তু ছোটমানুষ হলেও এতে খানিকটা আত্মসম্মানে লাগতো। পরে বুঝেছিলাম, মুসলিম পরিবারে জন্ম নেয়ার কারণে আমি ছিলাম তাদের চোখে নিচু জাত। তারা ছিল ব্রাহ্মণ, অর্থাৎ উঁচু জাতি। ব্রহ্মার মাথা থেকে তারা সৃষ্টি হয়েছে। তাদের ধর্ম অনুসারে, আমি তাদের ব্যবহৃত থালাবাসন ব্যবহার করলে, স্পর্শ করলেও সেইসব থালাবাসনা এবং তারা অপবিত্র হয়ে যাবে। আমি এতটাই অপবিত্র যে, আমার ছায়াও নাকি মারানো যাবে না। এরকম আরো নানা ধরণের কেচ্ছা, যা খুবই সাম্প্রদায়িক এবং নিচু মন মানসিকতার প্রকাশ। সেই সময়ে ভাবতাম, এগুলো হিন্দু ধর্মের কুসংস্কার। ইসলামে এসব নেই। মানুষের জন্ম কোথায়, কোন পরিবারে, তার ওপর নির্ভর করে তার সম্মান ও মর্যাদা নির্ধারণের এই নিয়মগুলো অত্যন্ত অমানবিক এবং মানুষ হিসেবে আমাদের লজ্জিত করে।
এটি অবশ্যই সত্য যে, ইসলামে এই ধরণের জাতিভেদ বা বর্ণবাদ নেই। ইসলাম ধর্ম এইদিক দিয়ে অনেকটা মুক্ত। সেই সাথে, ইসলামে মুসলিমদের ভেতরে জাতি গোত্র বংশ সবাইকেই কিছু জায়গাতেই কিছুকিছু জায়গাতে সমান মর্যাদার কথাও বলা হয়েছে। বিশেষত এই কারণেই, ভারতে ইসলামের আগমনের পরে শত শত বছর ধরে জাতিভেদের যাতাকলে নিষ্পেষিত কোটি কোটি দলিত এবং নিম্নবর্ণের হিন্দুরা ইসলাম গ্রহণ করেছিল। একইসাথে এটিও সত্য যে, ইসলামের ভেতরে জাতিভেদ এবং বর্ণবাদের বিষও রয়েছে, খুব ভালভাবেই। আজকে আমাদের আলোচ্য বিষয় হচ্ছে, ইসলামে প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে, সুক্ষভাবে, মানসিকভাবে, কীভাবে জাতিভেদ বা বর্ণবাদ রয়েছে, সেটি। আশাকরি পাঠকগণ মন দিয়ে লেখাটি পড়বেন এবং পর্যালোচনা করবেন।

কালো, তবু সুন্দর?
সেই ছোটবেলা থেকেই আমরা নানা ধরণের রূপকথা এবং দাদীনানীর মুখ থেকে অনেক গল্প শুনে বড় হই। আমাদের মন মানসিকতার ভিত্তি গঠনে সেগুলো খুব বড় প্রভাব বিস্তার করে। আমরা অনেকেই ভাবতেও পারি না, সেই ছোটবেলা থেকেই আমাদের শিক্ষা দেয়া হয় বর্ণবাদের। যেমন, আমি একটি গল্প ছোটবেলায় শুনেছিলাম, এক রাণী, তার গায়ের রঙ কালো। তার মনে বেজায় দুঃখ। তো একবার সে একটি বর পেলো। একটি পুকুরে ডুব দিলে সে ফর্সা হয়ে যাবে। সে পুকুরে গিয়ে ডুব দিলো, অমনি ফর্সা হয়ে গেল। সেই রানীর এক সতীন ছিল। সে ছিল ফর্সা। সে এই ঘটনাটি জেনে গেল। তো আরো বেশি ফর্সা হওয়ার জন্য সে ঐ পুকুরে অনেকবার গিয়ে ডুব দিতে লাগলো। কিন্তু দেখা গেল, অনেকবার ডুব দেয়ার কারণে সে কালো হয়ে গেছে। গল্পটি দ্বারা আমাদের শেখানোর চেষ্টা হয়েছিল যে, অতি লোভ করতে নেই। কিন্তু, একইসাথে আমরা এটিও শিখেছিলাম যে, ফর্সা হওয়াটাই সুন্দর। মানে ফর্সা মানেই সৌন্দর্য্য, কালো মানেই কুৎসিত! যা ছিল অত্যন্ত নোংরা বর্ণবাদী একটি ধারণা।
বড় হওয়ার পরেও টেলিভিশন, মিডিয়া, সংবাদপত্রে একই ধরণের বিজ্ঞাপন দেখতাম। একটি মেয়ে চাকরির ইন্টারভিউ দিতে যাচ্ছে, তার গায়ের রঙ কালো। তাকে চাকরিটি দেয়া হলো না। সে ফেয়ার এন্ড লাভলি কিনলো। মাখলো। দুই সপ্তাহেই সে হয়ে উঠলো ফর্সা। এরপরে তাকে চাকরিতে নেয়া হলো। যে তাকে দেখে সেই প্রেম করতে চায়। সে এক দারুণ অবস্থা! এইসব বিজ্ঞাপন দ্বারা আসলে খুব কৌশলে মানুষের মধ্যে এই ধারণা প্রতিষ্ঠা করে দেয়া হয় যে, কালো মানেই অসুন্দর, আর ফর্সা মানেই সুন্দর। সাহিত্যে, শিল্পকলায়, গানে, সিনেমায়, সব জায়গাতেই লক্ষ্য করলে দেখবেন, গল্পটির অশুভ বা খলনায়ক চরিত্রটি হয় কালো চামড়ার, আর শুভ চরিত্রটির গায়ের চামড়া হয় ফর্সা। যুগযুগ ধরে কালো বেড়াল আমাদের দেশে অশুভ বলে বিবেচিত হয়ে আসছে। ডাউনি, পেত্নী, রাক্ষুসী এগুলো সবকিছুর কথা মনে হলেই, মানসিকভাবেই আমাদের চোখে ভেসে আসে কালো গায়ের রঙের একজনার ছবি। অবচেতনভাবেই আমরা ভেবে নিই, সে কালোই হবে। আর দেবদূত বা ফেরেশতা বা দেবতা হিসেবে কল্পনা করলে, মনের মধ্যে ভেসে আসে ফর্সা ধবধবে একজনার ছবি। সাদা দাড়িওয়ালা সাদা জামা পড়া একজনার ছবি। এগুলো সেই ছোটবেলাতেই আমাদের মগজে এমনভাবে ঢুকিয়ে দেয়া হয়েছে যে, এসব বর্ণবাদী চিন্তা থেকে বের হওয়া খুব কঠিন ব্যাপার।
কিছুদিন আগে বাঙলাদেশের শীর্ষস্থানীয় সংবাদপত্র প্রথম আলো “কালো, তবু সুন্দর” শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। লক্ষ্য করলে দেখবেন, এখানে তবু শব্দটি দিয়ে যাদের গায়ের রঙ কালো, তাদের সম্পর্কে অসম্ভব নোংরা এবং বর্ণবাদী চিন্তা প্রকাশ করা হয়েছে। তবু, যদিও, তবুও, এমনকি, এই শব্দগুলো কখন এবং কীভাবে ব্যবহৃত হয়, সেটি আমরা সকলেই বুঝি। এর অর্থ হচ্ছে, উনি কালো, তারপরেও সুন্দর! যেন কালো মানুষ মাত্রই অসুন্দর, তবে এই কালো মেয়েরা কালো হওয়ার পরেও সুন্দর! অত্যন্ত নোংরা এবং ইতর শ্রেণির এই প্রতিবেদন বিপুল সমালোচনার শিকার হয়, এবং পরবর্তীতে তারা তাদের শিরোনামটি বদলে ফেলতে বাধ্য হয়। এই নিয়ে বিবিসির এই প্রতিবেদনটি দেখতে পারেন [

মুহাম্মদের গায়ের রঙ
এই প্রশ্নটি অনেকের মনেই আসতে পারে, নবী মুহাম্মদ ব্যক্তিগতভাবে কীরকম ছিলেন? তার গায়ের রঙ কেমন ছিল? আসুন হাদিস থেকেই সেটিও জেনে নিই [24] [25] –
সহীহ মুসলিম (ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
৪৫/ ফযীলত
পরিচ্ছেদঃ ২৮. নবী (ﷺ) এর দিলে কমনীয় (লালচে) শুভ্র চেহারার অধিকারী
৫৮৬২। সাঈদ ইবনু মানসুর (রহঃ) … আবূ তুফায়ল (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি (জুরায়রী) বলেন, আমি তাঁকে জিজ্ঞাসা করলাম যে, আপনি কি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে দেখেছেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ, তিনি ছিলেন ফর্সা, লাবণ্যময় চেহারার অধিকারী।
মুসলিম ইবনুল হাজ্জাজ (রহঃ) বলেন, একশ হিজরীতে আবূ তুফায়ল (রাঃ) ইন্তেকাল করেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাহাবীদের মধ্যে তিনই সর্বশেষে ইন্তেকাল করেন।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবুত্ব তুফায়ল (রাঃ)
সহীহ মুসলিম (ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
৪৫/ ফযীলত
পরিচ্ছেদঃ ২৮. নবী (ﷺ) এর দিলে কমনীয় (লালচে) শুভ্র চেহারার অধিকারী
৫৮৬৩। উবায়দুল্লাহ ইবনু উমর কাওয়ারীরী (রহঃ) … আবূ তুফায়েল (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে দেখেছি। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে দেখেছেন আমি ছাড়া এমন কেউ দুনিয়ায় আর অবশিষ্ট নেই। রাবী বলেন, আমি বললাম, তাঁকে কেমন দেখেছেন? তিনি বললেন, ফর্সা, লাবণ্যময় এবং মধ্যমাকৃতির।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবুত্ব তুফায়ল (রাঃ)
পাপের রঙ কালো?
নবী মুহাম্মদ অনেক জায়গাতেই পাপ হিসেবে কালো রঙকে চিহ্নিত করেছে। আর পুন্য হিসেবে সাদা রঙকে চিহ্নিত করেছেন। যেমন ধরুন, হাজরে আসওয়াদ নামক পাথরটি জান্নাত থেকে যখন অবতীর্ন হয়েছিল, তখন সেটি ছিল দুধের থেকেও শুভ্র, মানে হচ্ছে পবিত্র এবং পাপমুক্ত। কিন্তু পৃথিবীর মানুষের পাপের কারণে এটি কালো রঙ ধারণ করে [26] –
সূনান তিরমিজী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
৯/ হাজ্জ (হজ্জ)
পরিচ্ছেদঃ হাজরে আসওয়াদ রুকন ও মাকামে ইবরাহীমের ফযীলত।
৮৭৮. কুতায়বা (রহঃ) ……. ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, হাজরে আসওয়াদ জান্নাত থেকে অবতীর্ন হয়েছিল তখন সেটি ছিল দুধ থেকেও শুভ্র। মানুষের গুণাহ- খাতা এটিকে এমন কালো করে দিয়েছে। – মিশকাত ২৫৭৭, তা’লীকুর রাগীব ২/১২৩, আল হাজ্জুল কাবীর, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৮৭৭ (আল মাদানী প্রকাশনী)
এই বিষয়ে আবদুল্লাহ ইবনু আমর ও আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, ইবনু আব্বাস (রাঃ) বর্ণিত হাদীসটি হাসান-সহীহ।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাঃ)
আরো অনেকগুলো হাদিসে পাপকে কালো রঙের সাথে সম্পর্কিত করা হয়েছে, আর সাদাকে করা হয়েছে পুন্যের সাথে [27] [28] [29]।
সুনানে ইবনে মাজাহ
৩১/ পার্থিব ভোগবিলাসের প্রতি অনাসক্তি
পরিচ্ছেদঃ ৩১/২৯. পাপের স্মরণ
৩/৪২৪৪। আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ মুমিন ব্যক্তি যখন গুনাহ করে তখন তার কলবে একটি কালো দাগ পড়ে। অতঃপর সে তওবা করলে, পাপকাজ ত্যাগ করলে এবং ক্ষমা প্রার্থনা করলে তার কলব পরিচ্ছন্ন হয়ে যায়। সে আরও গুনাহ করলে সেই কালো দাগ বেড়ে যায়। এই সেই মরিচা যা আল্লাহ তাঁর কিতাবে উল্লেখ করেছেন (অনুবাদঃ) ‘‘কক্ষনো নয়, বরং তাদের কৃতকর্মই তাদের অন্তরে জং (মরিচা) ধরিয়েছে’’ (সূরা আল-মুতাফফিফীনঃ ১৪)।
তিরমিযী ৩৩৩৪, আহমাদ ৭৮৯২, আত-তালীকুর রাগীব ২/২৬৮, ৪/৭৪। তাহকীক আলবানীঃ হাসান।
হাদিসের মানঃ হাসান (Hasan),সূনান তিরমিজী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
৫০/ কুরআন তাফসীর
পরিচ্ছেদঃ সূরা ওয়াইলুল-লিল-মুতাফফিফীন
৩৩৩৪. কুতায়বা (রহঃ) ….. আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ বান্দা যখন কোন গুনাহ করে তখন তার হৃদয়ে একটি কাল দাগ পড়ে। পরে যখন সে গুনাহ থেকে বিরত হয় এবং ক্ষমা প্রার্থনা করে ও তাওবা করে তখন তার হৃদয় উজ্জ্বল হয়ে যায়। কিন্তু সে যদি পুনরাবৃত্তি করে তবে কাল দাগ বৃদ্ধি পায়। এমনকি তার হৃদয়ের উপর তা প্রবল হয়ে উঠে। এই আবস্থাটিকেই আল্লাহ তা’আলা রা’ন (মরচে পড়া) বলে উল্লেখ করেছেনঃ (كلاَّ بَلْ رَانَ عَلَى قُلُوبِهِمْ مَا كَانُوا يَكْسِبُونَ) – কখনও নয়, বরং এদের কৃতকর্মেও দরুন এদের হৃদয়ে জং ধরেছে। (সূরা মুতাফফিফীন ৮৩ঃ ১৪)।
হাসান, আত তা’লীকুর রাগীব ২/২৬৮, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩৩৩৪ (আল মাদানী প্রকাশনী)
(আবু ঈসা বলেন) হাদীসটি হাসান- সহীহ।
হাদিসের মানঃ হাসান (Hasan)
বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ)
সহীহ মুসলিম (ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
১/ কিতাবুল ঈমান
পরিচ্ছেদঃ ৬৩. কতকের অন্তর থেকে ঈমান ও আমানতদারী উঠিয়ে নেয়া এবং অন্তরে ফিতনার সৃষ্টি হওয়া
২৬৭. মুহাম্মাদ ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু নুমায়র (রহঃ) … হুযায়ফা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন, একদিন আমরা উমর (রাঃ)-এর কাছে ছিলাম। তিনি বললেন, তোমাদের মধ্যে কে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে ফিতনা সম্পর্কে আলোচনা করতে শুনেছ? উপস্থিত একদল বললেন, আমরা শুনেছি। উমর (রাঃ) বললেন, তোমরা হয়ত একজনের পরিবার ও প্রতিবেশীর ফিতনার কথা মনে করেছ। তারা বললেন, হ্যাঁ, অবশ্যই। তিনি বললেন, সালাত (নামায/নামাজ), রোযা ও সা’দকার মাধ্যমে এগুলোর কাফফারা হয়ে যায়। উমর (রাঃ) বললেন, না, আমি জানতে চেয়েছি, তোমাদের কে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সে বৃহৎ ফিতনার কথা আলোচনা করতে শুনেছে, যা সমুদ্র তরঙের মত ধেয়ে আসবে।
হুযায়ফা (রাঃ) বলেন, প্রশ্ন শুনে সবাই চুপ হয়ে গেল। আমি বললাম, আমি (শুনেছি)। উমর (রাঃ) বললেন, তুমি শুনেছ, মা-শা আল্লাহ। হুযায়ফা (রাঃ) বললেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে বলতে শুনেছি, চাটাই বুননের মত এক এক করে ফিতনা মানুষের অন্তরে আসতে থাকে। যে অন্তরে তা গেঁথে যায়, তাতে একটি করে কাল দাগ পড়ে। আর যে অন্তর তা প্রত্যাখ্যান করবে, তাতে একটি করে শুভ্রোজ্জ্বল চিহ্ন পড়বে। এমনি করে দুটি অন্তর দু’ধরণের হয়ে যায়। একটি শ্বেত পাথরের মত; আসমান ও যমীন যতদিন থাকবে ততদিন কোন ফিতনা তার কোন ক্ষতি করতে পারবে না। আর অপরটি হযে যায় উল্টানো কাল কলসির মত, প্রবৃত্তি তার মধ্যে যা সেঁধে দিয়েছে তা ছাড়া ভালমন্দ বলতে সে কিছুই সে চিনে না।
হুযায়ফা (রাঃ) বললেন, উমর (রাঃ) কে আমি আরো বললাম, আপনি এবং সে ফিতনার মধ্যে একটি বন্ধ দরজা রয়েছে। অচিরেই সেটি ভেঙ্গে ফেলা হবে। উমর (রাঃ) বললেন, সর্বনাশ! তা ভেঙে ফেলা হবে? যদি ভেঙে ফেলা না হতো, তাহলে হয়ত পূনরায় বন্ধ করা যেত। হুযায়ফা (রাঃ) উত্তর করলেন, না ভেঙে ফেলাই হবে। হুযায়ফা (রাঃ) বলেন, আমি উমর (রাঃ) কে এ কথাও শুনিয়েছি, সে দরজাটি হল একজন মানুষ; সে নিহত হবে কিংবা স্বাভাবিক মৃত্যুবরণ করবে। এটি কোন গল্প নয় বরং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর হাদীস। বর্ণনাকারী আবূ খালিদ বলেন, আমি সা’দকে জিজ্ঞেস করলাম,أَسْوَدُ مُرْبَادًّا এর অর্থ কি? উত্তরে তিনি বললেন, ‘কালো-সাদায় মিশ্রিত রং-। আমি বললাম,الْكُوزُ مُجَخِّيًا এর অর্থ কি? তিনি বললেন ‘উল্টানো কলসি’।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ হুযাইফাহ (রাঃ)
জান্নাতে গায়ের রঙ হবে ফর্সা
ইসলামে মুমিনদের জন্য নির্ধারিত অনন্ত ভোগ বিলাস, আরাম আয়েস আর যৌনতার স্থান জান্নাতে সকল মানুষের গায়ের রঙ হবে ফর্সা। কারণ, জান্নাতে কোন অপবিত্র কিছু থাকতে পারে না। এর দ্বারা এটি খুব পরিষ্কারভাবেই বোঝা যায় যে, ইসলামে ফর্সা আসলে সৌন্দর্য্য বা পবিত্রতার প্রতিশব্দ হিসেবেই ব্যবহৃত হয়। আর কালো ব্যবহৃত হয় অশুভ বা খারাপ কিছু বোঝাতে [35] [36]।
সহীহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
৫০/ আম্বিয়া কিরাম (আঃ)
পরিচ্ছেদঃ ২০০০. আদম (আঃ) ও তাঁর সন্তানদের সৃষ্টি।
৩০৯২। কুতায়বা ইবনুু্ সাঈদ (রহঃ) … আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, সর্বপ্রথম যে দল জান্নাতে প্রবেশ করবে তাদের মুখমণ্ডল হবে পূর্ণিমার রাতের চাঁদের মত উজ্জ্বল। তারপর যে দল তাদের অনুগামী হবে তাদের মুখমণ্ডল হবে আকাশের সর্বাদিক দীপ্তমান উজ্জ্বল তারকার মত। তারা না করবে পেশাব আর না করবে পায়খানা। তাদের থুথু ফেলার প্রয়োজন হবে না এবং তাদের নাক হতে শ্লেম্মাও বের হবে না। তাদের চিরুনি হবে স্বর্ণের তৈরি। তাদের ঘাম হবে মিস্কের ন্যায় সুগন্ধপূর্ণ। তাদের ধনুচি হবে সুগন্ধযুক্ত চন্দন কাঠের। বড় চক্ষু বিশিষ্ট হুরগণ হবেন তাদের স্ত্রী। তাদের সকলের দেহের গঠন হবে একই। তারা সবাই তাদের আদি-পিতা আদম (আলাইহিস সালাম) এর আকৃতিতে হবেন। উচ্ছতায় তাদের দেহের দৈর্ঘ্য হবে ষাট হাত বিশিষ্ট।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ)
সহীহ বুখারী (তাওহীদ)
৫৯/ সৃষ্টির সূচনা
পরিচ্ছেদঃ ৫৯/৮. জান্নাতের বর্ণনা সম্পর্কে যা বলা হয়েছে আর তা হল সৃষ্ট।
৩২৫৪. আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, প্রথম যে দল জান্নাতে প্রবেশ করবে তাদের চেহারা পূর্ণিমা রাতের চাঁদের মত উজ্জ্বল হবে আর তাদের অনুগামী দলের চেহারা আকাশের উজ্জ্বল তারকার চেয়েও অধিক সুন্দর ও উজ্জ্বল হবে। তাদের অন্তরগুলো এক ব্যক্তির অন্তরের মত হবে। তাদের মধ্যে কোন বিদ্বেষ থাকবে না, কোন হিংসা থাকবে না, তাদের প্রত্যেকের জন্য ডাগর ডাগর চোখওয়ালা দু’জন করে এমন স্ত্রী থাকবে, যাদের পদ তলের অস্থি মজ্জা ও গোশ্ত ভেদ করে দেখা যাবে। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩০১৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩০২৩)
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ)
ইহুদি বিদ্বেষ কাকে বলে?
ইহুদি-বিদ্বেষ বলতে ইহুদি জাতি, গোষ্ঠী বা ধর্মের প্রতি যেকোনো ধরণের বৈরিতা বা কুসংস্কারকে বোঝানো হয়ে থাকে। এধরণের বিদ্বেষের মধ্যে ব্যক্তিগত ঘৃণা থেকে শুরু করে এমনকি সংঘবদ্ধ জাতি-নিধনও পড়ে। ইংরেজিতে একে বলা হয় এন্টি-সেমিটিজম (Anti-Semitism) ,যার অর্থ দাঁড়ায় সেমিটীয় সম্প্রদায়ের প্রতি বিদ্বেষ। সেমিটীয় একটি বৃহৎ ভাষাভাষী গোষ্ঠী যার মধ্যে হিব্রুভাষী ছাড়াও আরবিভাষীরাও অন্তভুক্ত। তথাপি অ্যান্টি-সেমিটিজম ইহুদি-বিদ্বেষ বোঝাতেই ব্যবহৃত হয়। ইহুদি-বিদ্বেষের ইতিহাস প্রাচীন হলেও এটি চরম আকার ধারণ করে হিটলার-শাসিত জার্মানিতে। খ্রিস্টান-শাসিত ইউরোপে বৃহত্তম সংখ্যালঘু ধর্মীয়-গোষ্ঠী হিসেবে ইহুদিরা বিভিন্ন সময় ধর্মীয় বিদ্বেষ, নির্যাতন ও সহিংসতার শিকার হত। ধর্মীয় নির্যাতনের মধ্যে ছিল – ধর্ম-পালনে বাধা, জোরপূর্বক ধর্মান্তরকরণ, দেশ থেকে বিতাড়ন, ইত্যাদি। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় হিটলার শাসিত জার্মানি আইন করে যুগযুগ ধরে জার্মানিতে বসবাস করা ইহুদিদের ভিটেমাটি দোকানপাট জায়গাজমি সব অধিগ্রহণ করে তাদের কন্সেন্ট্রেশন ক্যাম্পে প্রেরণ করে এবং পর্যায়ক্রমে হত্যা করে। প্রায় ৬০ লক্ষ ইহুদিকে হত্যা করা হয়। ইতিহাসে এই ঘটনা ‘হলোকস্ট’ (Holocaust) নামে পরিচিত। আসুন দেখি, এই একই কাজ নবী মুহাম্মদও করেছিলেন কিনা
সহীহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
৮৫/ কুরআন ও সুন্নাহকে দৃঢ়ভাবে ধারণ
পরিচ্ছেদঃ ৩০৯২. মহান আল্লাহর বাণীঃ মানুষ অধিকাংশ ব্যাপারেই বিতর্কপ্রিয় (১৮ঃ ৫৪)। মহান আল্লাহর বাণীঃ তোমরা কিতাবীদের সাথে বিতর্ক করবে না………. (২৯ঃ ৪৬)
৬৮৪৭। কুতায়বা (রহঃ) … আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমরা মসজিদে নববীতে ছিলাম। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদ থেকে বের হয়ে আমাদেরকে বললেনঃ তোমরা চলো ইহুদীদের সেখানে যাই। আমরা তাঁর সঙ্গে বেরিয়ে এলাম। অবশেষে আমরা বায়তুল মিদরাসে (তাদের শিক্ষাগারে) পৌছলাম। তারপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেখানে দাঁড়িয়ে তাদেরকে লক্ষ্য করে বললেনঃ হে ইহুদী সম্প্রদায়! তোমরা ইসলাম কবুল কর, এতে তোমরা নিরাপদে থাকবে। ইহুদীরা বলল, হে আবূল কাসিম! আপনার পৌছানোর দায়িত্ব আপনি পালন করেছেন। এরপর তিনি বললেনঃ আমার ইচ্ছা তোমরা ইসলাম কবুল কর এবং শান্তিতে থাক। তারাও আবার বলল, হে আবূল কাসিম! আপনার পৌছানোর দায়িত্ব আপনি পালন করেছেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে বললেনঃ আমি এরূপই ইচ্ছা রাখি। তৃতীয়বারেও তিনি তাই বললেন। পরিশেষে রাসূলুল্লাহসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ জেনে রেখো, যমীন একমাত্র আল্লাহ ও তার রাসুলের। আমি তোমাদেরকে এই এলাকা থেকে উচ্ছেদ করে দিতে চাই। সুতরাং তোমাদের মধ্যে যাদের অস্থাবর সম্পত্তি আছে, তা যেন সে বিক্রি করে দেয়। অন্যথায় জেনে রেখো যমীন আল্লাহ ও তার রাসুলের।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ)
সুনান আবূ দাউদ (তাহকিককৃত)
অধ্যায়ঃ ১৪/ কর, ফাই ও প্রশাসক
৩০০৩। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘আমরা মাসজিদে উপস্থিত ছিলাম, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের কাছে বেরিয়ে এসে বললেনঃ ইয়াহুদীদের এলাকায় চলো। ‘আমরা তাঁর সাথে বের য়ে সেখানে গিয়ে পৌঁছলাম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাঁড়িয়ে তাদেরকে ডেকে বললেনঃ হে ইয়াহুদী সম্প্রদায়! তোমরা ইসলাম কবূল করো শান্তিতে থাকবে। তারা বললো, হে আবুল কাসিম! আপনি পৌঁছে দিয়েছেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে আবার বললেনঃ তোমরা ইসলাম কবূল করো, নিরাপত্তা পাবে। তারা বললো, হে আবুল কাসিম! আপনি পৌঁছে দিয়েছেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে বললেনঃ এ দাওয়াত পৌঁছে দেয়াই আমার উদ্দেশ্য ছিলো। তৃতীয় বারও তিনি একই কথার পুনরাবৃত্তি করে বললেনঃ জেনে রাখো! এ ভুখন্ডের মালিকানা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের। আমি তোমাদের এ ভূখন্ড থেকে বিতাড়িত করতে চাই। সুতরাং তোমরা কোনো জিনিস বিক্রি করতে সক্ষম হলে বিক্রি করো। অন্যথায় জেনে রাখো! এ ভূখন্ডের মালিক আল্লাহ ও তাঁর রাসূল।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)। সহীহ মুসলিম (ইফাঃ)
অধ্যায়ঃ ৩৩/ জিহাদ ও এর নীতিমালা
পরিচ্ছদঃ ২১. ইয়াহুদী ও নাসারাদের আরব উপ-দ্বীপ থেকে বহিস্কার
৪৪৪২। যুহায়র ইবনু হারব ও মুহাম্মাদ ইবনু রাফি (রহঃ) … জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ) বলেন, আমার কাছে উমর ইবনু খাত্তাব (রাঃ) বর্ণনা করেন যে, তিনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছেন যে, নিশ্চয়ই আমি ইয়াহুদী ও খ্রীষ্টান সম্প্রদায়কে আরব উপ-দ্বীপ থেকে বহিস্কার করবো। পরিশেষে মুসলমান ব্যতীত অন্য কাউকে এখানে থাকতে দেবো না।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
সহীহ মুসলিম (হাঃ একাডেমী)
অধ্যায়ঃ ৩৩। জিহাদ ও সফর
পরিচ্ছদঃ ২১. ইয়াহুদী ও নাসারাদের আরব উপ-দ্বীপ থেকে বের করে দেয়া
৪৪৮৬-(৬৩/১৭৬৭) যুহায়র ইবনু হারব ও মুহাম্মাদ ইবনু রাফি’ (রহঃ) ….. জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাযিঃ) বলেন, আমার কাছে উমর ইবনু খাত্তাব (রাযিঃ) বর্ণনা করেন যে, তিনি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছেন যে, নিশ্চয়ই আমি ইয়াহুদী ও খ্ৰীষ্টান সম্প্রদায়কে আরব উপ-দ্বীপ থেকে বের করে দেবো। তারপর মুসলিম ব্যতীত অন্য কাউকে এখানে থাকতে দেবো না। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৪৪২, ইসলামিক সেন্টার ৪৪৪৪)
যুহায়র ইবনু হারব ও সালামাহ্ ইবনু শাবীব (রহঃ) ….. উভয়েই আবূ যুবায়র (রহঃ) থেকে এ সানাদে অনুরূপ বর্ণনা করেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৪৪২, ইসলামিক সেন্টার ৪৪৪৫)
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih
আল্লাহর চোখে অমুসলিমগণ
এগুলো পড়ার পরে মনে হয়, আল্লাহ আসলে অমুসলিমদের কী চোখে দেখতেন? আসুন কোরআন থেকে কয়েকটি আয়াত দেখে নেয়া যাক
আহলে-কিতাব ও মুশরেকদের মধ্যে যারা কাফের, তারা জাহান্নামের আগুনে স্থায়ীভাবে থাকবে। তারাই সৃষ্টির অধম।
কুরআন ৯৮ঃ৬
সমস্ত জীবের মাঝে আল্লাহর নিকট তারাই সবচেয়ে নিকৃষ্ট, যারা অস্বীকারকারী হয়েছে অতঃপর আর ঈমান আনেনি।
কোরআন ৮:৫৫
নিশ্চয় যারা কুফরী করে এবং কাফের অবস্থায়ই মৃত্যুবরণ করে, সে সমস্ত লোকের প্রতি আল্লাহর ফেরেশতাগনের এবং সমগ্র মানুষের লা’নত।
কোরআন ২-১৬১
বস্তুতঃ এহেন কাফেরদের উদাহরণ এমন, যেন কেউ এমন কোন জীবকে আহবান করছে যা কোন কিছুই শোনে না, হাঁক-ডাক আর চিৎকার ছাড়া বধির মুক, এবং অন্ধ। সুতরাং তারা কিছুই বোঝে না।
কোরআন ২-২৫৭
আর আমি সৃষ্টি করেছি দোযখের জন্য বহু জ্বিন ও মানুষ। তাদের অন্তর রয়েছে, তার দ্বারা বিবেচনা করে না, তাদের চোখ রয়েছে, তার দ্বারা দেখে না, আর তাদের কান রয়েছে, তার দ্বারা শোনে না। তারা চতুষ্পদ জন্তুর মত; বরং তাদের চেয়েও নিকৃষ্টতর। তারাই হল গাফেল, শৈথিল্যপরায়ণ।
কোরআন ৭:১৭৯
উপরের দীর্ঘ আলোচনাতে এটি একদমই পরিষ্কার যে, ইসলামে জাতিভেদ বা বর্ণবাদের বিরুদ্ধে কয়েকটি ভাল বক্তব্য যেমন আছে, একইসাথে অনেকগুলো বর্ণবাদী এবং জাতিভেদের পক্ষের বক্তব্যও রয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই, আধুনিক সময়ের মুসলিমগণ খারাপ কথাগুলোকে লুকিয়ে ভাল কথাগুলোকে বেশী বেশী প্রচার করেন। কিন্তু এতে আসলে একটি খণ্ডিত ধারণা পাওয়া সম্ভব। যেসব জায়গাতে বর্ণবাদী এবং জাতিভেদের সমর্থনের কথাগুলো রয়েছে, সেগুলো নিয়ে কথা না বললে, সেগুলোর সমালোচনা না করলে সত্যের অপলাপ হবে। সত্যের স্বার্থেই সকল প্রকারের বর্ণবাদের সমালোচনা করে যেতে হবে। এতে কে খুশী হলো আর কে অনুভূতিতে আঘাতপ্রাপ্ত হলো, সেগুলো আমাদের বিবেচ্য বিষয় নয়।
